ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আজ শনিবার চীনের তিয়ানজিনে পৌঁছেছেন। সাত বছরের মধ্যে এটিই তাঁর প্রথম চীন সফর। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আমন্ত্রণে মোদি এই সফরে গেছেন। আগামীকাল রোববার তাঁর সঙ্গে সির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবেন তিনি।
২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে গিয়েছিল। সীমান্তে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কমেনি। এমন প্রেক্ষাপটে মোদির এই সফরকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপও মোদির সফরের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করেছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির কারণে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা শুল্ক আরোপ করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ফলে ভারতের জন্য বিকল্প অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীন সফরের মধ্য দিয়ে মোদি সেই দিকেই অগ্রসর হচ্ছেন।
চীন যাওয়ার আগে মোদি দুই দিনের সফরে জাপানে ছিলেন। সেখানে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরুর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ভারত–জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে যৌথ মুখ্য বক্তা হিসেবে ভাষণ দেন। দুই নেতা আগামী পাঁচ বছরে ভারতে জাপানের বিনিয়োগ ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার ঘোষণা দেন, যাকে তাঁরা ‘যৌথ দূরদৃষ্টি’ রূপরেখা বলেছেন।
আজ সকালে শিনকানসেন বুলেট ট্রেনে চড়ে মোদি ও ইশিবা মিইয়াগি প্রিফেকচারে যান। ভারত জাপানের দ্রুতগতির রেল প্রযুক্তির অন্যতম বড় ক্রেতা। এরপর সেখান থেকে মোদি সরাসরি চীনের তিয়ানজিনে পৌঁছান।
চীনে অবতরণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি লিখেছেন, “এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনা এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছি।” ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “এই সফর এসসিওতে ভারতের গঠনমূলক ও সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ।”
মোদির এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার ঝড় বইছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা এবং চীনের সঙ্গে অস্থির সম্পর্ক—সব মিলিয়ে এই সফর কেবল একটি আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ নয়, বরং ভারতের কূটনৈতিক দিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
Leave a comment