চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর এই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। গত বুধবার (২৬ মার্চ) দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক যুবকের মৃত্যু ও অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
২৪ মার্চ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মিরসরাই উপজেলা, বারিয়ারহাট এবং মিরসরাই পৌরসভা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আবদুল আওয়াল চৌধুরী এবং সদস্যসচিব হিসেবে আজিজুর রহমান চৌধুরীকে মনোনীত করা হয়।
এতে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের অনুসারীরা অসন্তুষ্ট হয়ে কমিটির বিরোধিতা করেন। তারা অভিযোগ করেন, কমিটিতে সুবিধাবাদী ও আওয়ামী লীগ-ঘেঁষা ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ২৫ মার্চ পদবঞ্চিত নেতারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং নতুন কমিটিকে প্রতিরোধের ঘোষণা দেন।
বিক্ষোভের জেরে ২৬ মার্চ প্রশাসন মিরসরাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নুরুল আমিনের অনুসারীরা মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে যান। একপর্যায়ে বারিয়ারহাট পৌরসভার জামালপুর এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাধে, যাতে মোহাম্মদ জাবেদ নামে এক যুবক নিহত হন এবং অন্তত ১৩ জন আহত হন।
বিএনপির এই দ্বন্দ্ব নতুন নয়। ২০০৯ সালে উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনের পর থেকেই নুরুল আমিন ও অপর নেতা নুরুল আমিনের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়। ২০১০ সালে এক ইফতার মাহফিলে হামলার পর থেকে দলটি দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন সময়ে কমিটি পরিবর্তন হলেও বিরোধ নিরসন হয়নি।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন অভিযোগ করেন, “উপজেলার ৯৫% নেতা-কর্মী আমাদের পক্ষে থাকলেও জেলা বিএনপি একতরফা কমিটি দিয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।” অন্যদিকে, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার বলেন, “বড় দলে বিভক্তি থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু দল সুসংগঠিত করতে নতুন কমিটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের স্থান দেওয়া হয়েছে।”
সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থাকায় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রীয় বিএনপির হস্তক্ষেপ ছাড়া এই বিরোধ সহজে মেটার সম্ভাবনা কম।
Leave a comment