ময়মনসিংহের ভালুকা, গফরগাঁও ও গৌরীপুর উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত সময়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন একজন চালক, এক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, এক দোকানদার এবং মাত্র চার বছর বয়সী এক শিশু।
শনিবার সকালে ভালুকার বিরুনীয়া মোড় এলাকায় সিলেট থেকে টাঙ্গাইলগামী একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে গুরুতর আহত হন চালক মো. রুবেল (৩০) ও আরেক যাত্রী। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুবেলকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বাড়ি টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার নলুয়া গ্রামে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ভালুকার মেদুয়ারী বান্দিয়া এলাকায় মসজিদ থেকে মাগরিবের নামাজ শেষে বাসায় ফেরার সময় রাস্তা পার হওয়ার মুহূর্তে দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মারা যান মোফাজ্জল হোসেন খান (৪৮)। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গফরগাঁওয়ের পাঁচপাইর গ্রামে চায়ের দোকানে বসা অবস্থায় মধ্যরাতে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণহীন একটি মোটরসাইকেল এসে ধাক্কা দেয় সাত্তার মাঝিকে (৪৫)। স্থানীয়রা আহত সাত্তার এবং চালক রিফাত মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে দুজনকেই ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়, যেখানে রাত আড়াইটার দিকে সাত্তারের মৃত্যু হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটে গৌরীপুর উপজেলার চৈয়ারকান্দা এলাকায় একটি মোটরসাইকেল চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় শিশু মো. সাফওয়ান (৪)। সে স্থানীয় উজ্জল মিয়ার ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মোটরসাইকেলটি দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়, ফলে চালককে আটক করা যায়নি।
প্রতিনিয়ত এমন সড়ক দুর্ঘটনার খবরে ময়মনসিংহবাসী উদ্বিগ্ন। নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন, অপরিকল্পিত রাস্তা ও দুর্বল আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে এই মৃত্যুর মিছিল থামবে না।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে নিহতদের পরিবারের আহাজারি ও ক্ষোভ যেন প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে—এই প্রাণহানির দায় আসলে কার?
Leave a comment