মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধাবস্থা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের চরম মুহূর্তে রাশিয়ার প্রতি সমঝোতার হাত বাড়িয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার (৩০ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আসন্ন ‘অর্থোডক্স ইস্টার’ উপলক্ষে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করেন। একই সঙ্গে দুই পক্ষকে একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মনে করেন, উভয় দেশের জ্বালানি খাতে হামলা বন্ধ করা গেলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের ক্রমবর্ধমান মূল্যের চাপ কিছুটা প্রশমিত হবে। উল্লেখ্য, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় চলতি মাসে রাশিয়ার তেল রপ্তানি সক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেন, “যদি রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা বন্ধ করে, তবে ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে না।” তবে তিনি পুনরায় সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইউক্রেনের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।
আগামী ১৬ এপ্রিল অর্থোডক্স ইস্টার উদযাপিত হবে। গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এককভাবে ৩০ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, যা কার্যকর করা নিয়ে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল। জেলেনস্কি এবার এই সাময়িক বিরতিকে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “যারা জীবনকে সম্মান করে, এমন সব স্বাভাবিক মানুষ একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চাইবে।”
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ায় ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০৭ ডলার ছাড়িয়েছে।
জেলেনস্কির এই নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিকে রক্ষা করতে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের তীব্রতা কমানো এখন সময়ের দাবি। তবে পুতিন এই প্রস্তাবে সাড়া দেবেন কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে এখনও গভীর সংশয় রয়েছে।
Leave a comment