ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে ভোটকেন্দ্রে মাত্র পাঁচ শ্রেণির ব্যক্তি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। তবে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের জন্য মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সময় যেসব ব্যক্তি মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে বা ব্যবহার করতে পারবেন তারা হলেন— প্রিজাইডিং অফিসার বা সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রধান পুলিশ কর্মকর্তা, ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত দুইজন আনসার সদস্য, নির্বাচন সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক (প্রযোজ্য নীতিমালা ২০২৫ অনুসরণ সাপেক্ষে), এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট ও সাধারণ ভোটাররা।
তবে ভোটকেন্দ্রে কর্মরত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং পোলিং এজেন্টদের কোনো অবস্থাতেই মোবাইল ফোন বহনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরাও—নির্দিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও অনুমোদিত আনসার সদস্য ছাড়া—এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবেন।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, ভোটের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে কোনো ব্যক্তি—সে ভোটার হোক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা—গোপন কক্ষ বা ব্যালট মার্কিং স্থানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। ভোটের পবিত্রতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় কমিশন।
ইতোমধ্যে এই নির্দেশনার অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি)সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
Leave a comment