বগুড়ার সদর উপজেলায় রিফাত জাহান রিংকি (১৯) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পরপরই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার নুনগোলা দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিংকি শাজাহানপুর উপজেলার নন্দকুল উত্তর পাড়া গ্রামের রাশেদুল ইসলামের মেয়ে। পাঁচ বছর আগে নুনগোলা এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে নুরুন্নবীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে প্রতিবেশীরা রিংকিকে বাড়ির উঠোনে স্বাভাবিকভাবে ব্যাডমিন্টন খেলতে দেখেন। যদিও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মাঝে মাঝে আলোচিত ছিল। রাতের দিকে হঠাৎ তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও উদ্বেগ দেখা দেয়।
নিহতের বোন আশা খাতুন বলেন, বিকেলে রিংকির মোবাইল ফোন থেকে তার নম্বরে একটি মিসকল আসে। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিংকি সাড়া দেননি। সন্ধ্যার পর স্বামী নুরুন্নবী ফোন করে দাবি করেন, রিংকির ওপর ‘জিনের আছর’ হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিংকির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। সে সময় তার গলায় আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করা যায় বলে দাবি করেন স্বজনরা।
নিহতের মামি আয়না খাতুন অভিযোগ করে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে রিংকিকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে। আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
বগুড়া সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজ আলম জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিক সুরতহালে আত্মহত্যার কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
Leave a comment