ফেনীর পরশুরামের দক্ষিণ কেতরাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় লোকালয়ে হঠাৎ চিতা বাঘ দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার পর থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা এবং শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে ঘণ্টাখানেক সময় ধরে সীমান্ত পিলার–২১৭৩/এস জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় বাঘটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এতে কৃষক ও সাধারণ মানুষ মাঠে কাজ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয়দের ধারণা, খাবারের সন্ধানে ভারতীয় জঙ্গল থেকে কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বাঘটি। অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গে এটি আবার বনে ফিরে যায়। ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে পশুটি আশ্রয় ও খাদ্যের খোঁজে সীমান্তবর্তী লোকালয়ে চলে এসেছে বলে মনে করছেন গ্রামবাসী।
দক্ষিণ কেতরাঙ্গার কৃষক জাকির হোসেন বলেন, যে এলাকায় বাঘটি ঘুরে বেড়িয়েছে সেখানে ধানখেত রয়েছে। কৃষকেরা মাঠে যেতে ভয় পাচ্ছেন। আরেক বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান, লোকালয়ে হঠাৎ বাঘের আবির্ভাবে সবাই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, লোকালয়ে ঢুকে বাঘটি কোনো ক্ষয়ক্ষতি করেনি এবং পরে বনে ফিরে গেছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিজিবি সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করেছে এবং বিষয়টি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফসহ জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগকে জানানো হয়েছে।
ফেনী বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ভৌমিক জানান, বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাটি নজরদারিতে রেখেছেন এবং স্থানীয়দের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পরশুরাম থানার ওসি মো. নুরুল হাকিম বলেন, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো জরুরি, যাতে লোকালয়ে পুনরায় বন্যপ্রাণী প্রবেশ না করে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
Leave a comment