পাবনা জেলার সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের মাধপুরে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘরটি অনাদর-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে সরকারি কোনো সংস্থা বা সংগঠন এর দেখভাল করছে না। তবে, স্থানীয় বাসিন্দা কেসমত আলী নিজ উদ্যোগে এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাদুঘরের চারপাশ ময়লা-আবর্জনায় ভরা, ফোয়ারার জলাশয়ে শেওলা জমেছে, আর কক্ষগুলো তালাবদ্ধ। ভেতরে রয়েছে স্তূপ করা বই ও মূল্যবান জিনিসপত্র, যেগুলো যথাযথ ব্যবস্থাপনায় নেই।
২০২০ সালে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে এই জাদুঘর নির্মাণ করে। তবে, নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর না করায় এটি কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।
১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ মাধপুর বটতলায় পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত হামলায় নয়জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পরবর্তী সময়ে সেখানে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয় এবং পরে জাদুঘর গড়ে তোলা হয়, যাতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা কেসমত আলী বলেন, সরকারি তত্ত্বাবধানের অভাবে তিনি নিজ উদ্যোগে এটি দেখভাল করছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু রাখা থেকে শুরু করে রক্ষণাবেক্ষণের কাজও তিনি নিজেই করছেন।
তিনি জানান, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর স্থানীয় নেতারা জাদুঘরের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এরপর একদল লোক এটি ভাঙার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু স্থানীয় জনগণের বাধায় তারা ফিরে যায়। বর্তমানে কেসমত আলী নিজ উদ্যোগে সেখানে পাহারা দিচ্ছেন এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন।
পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহারুল ইসলাম বলেন, “জাদুঘরটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে। তবে এটি এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে প্রশাসনও আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায়িত্ব নিতে পারেনি। হস্তান্তর হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পাবনার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘরটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অচল হয়ে পড়লেও স্থানীয়দের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এটি এখনও টিকে আছে। সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাদুঘরটির কার্যক্রম সচল করা সম্ভব, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Leave a comment