ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী জেলা কারাগারে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কারাগারের ভেতরে স্থাপন করা দুটি পৃথক ভোটকক্ষে বন্দিরা ভোট দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪০ জন বন্দি ভোট দিয়েছেন, আর মোট ৪২ জনের ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নোয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার এবং নির্বাচনের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বারেক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সকাল ৮টা থেকে পোস্টাল ব্যালটের ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।
মো. আবদুল বারেক বলেন, “মোট ৪৪ জন বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন। তবে মামলার কারণে দুইজন বন্দি অন্যত্র অবস্থান করায় বাকি ৪২ জন এ কারাগারে ভোট প্রদান করছেন।” তিনি আরও জানান, ভোটদানে অংশ নেওয়া বন্দিদের সকাল ৮টার আগেই নাস্তা শেষ করে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা যায়।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, নোয়াখালী জেলা কারাগারে বর্তমানে মোট ৯৪১ জন বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ৪৪ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেন, যা মোট বন্দির প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এই তুলনামূলক কম অংশগ্রহণের পেছনে একটি বাস্তব কারণও উল্লেখ করেছেন কর্মকর্তারা।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক বন্দি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ভোটের আগে জামিন পাওয়ার আশায় পোস্টাল ব্যালটের আবেদন করতে আগ্রহী হননি। কারণ, একবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার আবেদন করে ফেললে পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেলেও সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে সরাসরি গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেক বন্দি অপেক্ষার কৌশল বেছে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
জেল সুপার আরও বলেন, ভোটগ্রহণ শেষ হলে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি অনুসারে সব কাগজপত্র ও ব্যালট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কারা কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
কারাগারের ভেতরে ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং বিধি মেনে ভোটদান নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পৃথক ভোটকক্ষ, নির্ধারিত সময়সূচি এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ রাখা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে বাস্তব পরিস্থিতি, আইনি অবস্থান এবং ব্যক্তিগত মামলার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে অংশগ্রহণের হার কমবেশি হতে পারে।
Leave a comment