ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এক নৃশংস ও রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা তার প্রেমিকাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেহ টুকরো টুকরো করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চালিয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) বিশাখাপত্তনমের এই বর্বরোচিত ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ঘাতকের নাম চিনতাদা রবীন্দ্র (৩০)। তিনি ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইএনএস ডেগা’-তে কর্মরত। ২০২১ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ৩১ বছর বয়সী পোলিপল্লী মৌনিকার সাথে তার পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও ২০২৪ সালে রবীন্দ্র অন্য এক নারীকে বিয়ে করেন। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে।
সম্প্রতি রবীন্দ্রর স্ত্রী তার বাপের বাড়ি বেড়াতে যান। এই সুযোগে গত রবিবার বিকেলে রবীন্দ্র তার প্রেমিকা মৌনিকাকে নিজের সরকারি বাসভবনে ডেকে আনেন। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে রবীন্দ্র মৌনিকাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলতে তিনি অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে একটি ধারালো ছুরি অর্ডার করেন।
পুলিশ জানায়, ঘাতক রবীন্দ্র, মৌনিকার মাথা, হাত ও পা ধড় থেকে আলাদা করে ফেলেন। এরপর পা এবং কোমরের অংশ একটি ট্রলি ব্যাগে ভরেন এবং ধড়টি নিজের বাড়ির ফ্রিজে লুকিয়ে রাখেন। অন্যদিকে মাথা ও হাত অন্য এক নির্জন স্থানে নিয়ে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করেন।
নৃশংস এই কাণ্ড ঘটানোর পর রবীন্দ্র নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। রবীন্দ্রর দাবি, মৌনিকা তার কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়েছিলেন এবং প্রায়ই তাদের সম্পর্কের কথা স্ত্রীর কাছে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিতেন। এই মানসিক চাপ ও ব্ল্যাকমেইলিং সহ্য করতে না পেরে তিনি পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ রবীন্দ্রর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ফ্রিজ ও ঘরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মৌনিকার দেহাংশ উদ্ধার করে। তবে নিহতের কাটা মাথাটি এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ দেহাংশগুলো উদ্ধারে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। বিশাখাপত্তনম পুলিশ জানিয়েছে, আটক রবীন্দ্রর বিরুদ্ধে হত্যা ও তথ্য-প্রমাণ গোপনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাটি ২০২২ সালে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া কুখ্যাত ‘শ্রদ্ধা ওয়ালকার’ হত্যাকাণ্ডের বীভৎস স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে ঘাতক রবীন্দ্র পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Leave a comment