সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ইউক্রেনের একটি ড্রোন প্রতিরক্ষা স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। শনিবার পরিচালিত এ হামলায় সেখানে অবস্থানরত ইউক্রেনীয় ড্রোন বিশেষজ্ঞদের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লক্ষ্যবস্তু করা ওই স্থাপনাটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ডের খতম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় কমান্ডের এক মুখপাত্র দাবি করেন, হামলার সময় সেখানে অন্তত ২১ জন ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন। হামলার পর তাদের অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, তারা সবাই নিহত হয়েছেন।
তবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দাবি অস্বীকার করেছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের কোনো ঘটনার সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয় এবং বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা অভিযান শুরু করে তেহরান। সেই ধারাবাহিকতায় দুবাই ও আবুধাবিতে বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ইরানের সামরিক কমান্ড জানায়, দুবাইয়ে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর গোপন ঘাঁটি ও তাদের সহযোগী স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করেই এ হামলা পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার জন্য সেখানে রাখা ইউক্রেনের ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি ডিপোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ঘটনার দিনই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দুবাই সফরে ছিলেন। সফরকালে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের ঘোষণা দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের হামলার তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় পুরো ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে এবং বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়ছে।
Leave a comment