মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরান। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি তছনছ হয়ে গেছে—ট্রাম্পের এমন দাবিকে ‘ভুল তথ্য’ ও ‘অসম্পূর্ণ গোয়েন্দা বার্তা’ হিসেবে অভিহিত করে তেহরান হুশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের কৌশলগত সক্ষমতা সম্পর্কে শত্রু পক্ষ আসলে কিছুই জানে না।
বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।” ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড—খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এক বিবৃতিতে পাল্টাহুমকি প্রদান করেন। তাসনিম নিউজ ও এনডিটিভি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী জোলফাগারি বলেন, “আমাদের সামরিক শক্তি ও সরঞ্জাম সম্পর্কে তোমাদের তথ্য অসম্পূর্ণ। আমাদের ব্যাপক কৌশলগত সক্ষমতা সম্পর্কে তোমরা কিছুই জানো না।”
জোলফাগারি দাবি করেন, ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, নির্ভুল ড্রোন প্রযুক্তি, আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জামগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত ও কার্যকর রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেবল ‘তুচ্ছ’ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। ইরানের মূল কৌশলগত সামরিক উৎপাদন এমন সব গোপন স্থানে পরিচালিত হয়, যা মার্কিন গোয়েন্দাদের নাগালের বাইরে।
ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে এই ইরানি কর্মকর্তা আরও বলেন, এই আগ্রাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের কাছ থেকে আরও শক্তিশালী, ব্যাপক এবং ধ্বংসাত্মক আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকুন। এই যুদ্ধ ততক্ষণ চলবে, যতক্ষণ না আপনারা স্থায়ী অপমান ও আত্মসমর্পণের সম্মুখীন হন।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেওয়া’র আল্টিমেটাম এবং ইরানের ‘অক্ষত সক্ষমতা’র দাবি—উভয় পক্ষের এই বাগযুদ্ধ অঞ্চলটিকে এক ভয়াবহ ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
Leave a comment