ভারতের রাজস্থান রাজ্যের কোটা শহরের তালওয়ান্দি এলাকায় একটি তিনতলা ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ধসে পড়া ভবনটিতে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালিত হতো। দুর্ঘটনার সময় রেস্তোরাঁর ভেতরে বেশ কয়েকজন গ্রাহক ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন। হঠাৎ করেই বিকট শব্দে ভবনটি ভেঙে পড়ে, মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধুলো ও ধ্বংসস্তূপে ঢেকে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং জাতীয় ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবন ধসের মুহূর্তে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং চারদিকে চিৎকার ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই আশপাশের ভবন থেকে বেরিয়ে এসে উদ্ধার কাজে সহায়তা করার চেষ্টা করেন। তবে ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ বেশি হওয়ায় উদ্ধার কাজ জটিল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বিধায়ক সন্দীপ শর্মা দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা বা লক্ষণ ছাড়াই ভবনটি হঠাৎ ধসে পড়েছে। প্রশাসন দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে এবং মানুষের প্রাণ বাঁচানোই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি আরও জানান, ভবনটি কতটা পুরোনো ছিল এবং নির্মাণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
জেলা কালেক্টর পীযূষ সামারিয়া সরাসরি উদ্ধার অভিযানের তদারকি করছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। তবে ভবনের ভেতরে ঠিক কতজন মানুষ আটকে আছেন, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কোনো সংখ্যা জানানো সম্ভব নয়।
উদ্ধারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কয়েকজন মানুষ আটকে থাকতে পারেন। এজন্য অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল ও ভারী যন্ত্রপাতি আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকাটি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে উদ্ধার কাজ নির্বিঘ্নে চালানো যায়।
এই ঘটনায় কোটা শহরজুড়ে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভবনের নিরাপত্তা ও অনুমোদনবিহীন নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর নিয়মিত পরিদর্শন না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
Leave a comment