চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় বোনকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ছোট ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। পালানোর সময় বোরকা পরে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের কাছে ধরা পড়েন তিনি। সোমবার (২ মার্চ) রাত ১১টার দিকে হালিশহর থানার অধীন ঈদগাহ বড় পুকুর দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নারীর নাম সেনোয়ারা বেগম। তিনি ওই এলাকার সাবের আহমেদের স্ত্রী। হত্যার অভিযোগে আটক ব্যক্তির নাম জানে আলম, যিনি নিহতের ছোট ভাই এবং একই এলাকার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সেনোয়ারা বেগমের স্বামী ও ছেলে মসজিদে তারাবিহর নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন। তিনি বাসায় একাই ছিলেন।
এ সময় জানে আলম বাড়িতে এসে বোনের স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই সেনোয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর জানে আলম বোরকা পরে এলাকা থেকে পালানোর চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সন্দেহজনক আচরণ দেখে এলাকাবাসী তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করেন এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
তবে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় একদল বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং গণপিটুনির উদ্যোগ নেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে নিরাপদে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং এক ব্যক্তিকে আটক করে।তিনি বলেন, “ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পারিবারিক বিরোধ ও সম্পদসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব থেকে সহিংসতার এই ঘটনা আবারও সামাজিক নিরাপত্তা ও সচেতনতার প্রশ্ন সামনে এনেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a comment