Home আন্তর্জাতিক গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ‘জিহাদের’ আহ্বান
আন্তর্জাতিক

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ‘জিহাদের’ আহ্বান

Share
Share

১৭ মাস ধরে অবরুদ্ধ গাজায় চলমান ইসরায়েলি বর্বরতা ও গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের উদ্দেশে ‘জিহাদের’ আহ্বান জানিয়ে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ফতোয়া জারি করেছেন বিশ্বের প্রখ্যাত ১৫ জন মুসলিম ধর্মীয় নেতা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শুধু নিন্দা নয়, বরং সক্রিয় ও সংগঠিত প্রতিরোধ এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
এই ফতোয়ার মূল উদ্দোক্তা ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারসের (IUAMS) মহাসচিব আলী আল-কারদাঘি। গতকাল জারি করা ফতোয়ায় তিনি বলেন, “ইসরায়েলের এই বর্বর ও গণহত্যামূলক আক্রমণ বন্ধে সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করা মুসলিম দেশগুলোর জন্য একটি দায়িত্ব।”
কারদাঘি আরও বলেন, যদি আরব ও মুসলিম সরকারগুলো গাজার এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তা ফিলিস্তিনিদের প্রতি এক গভীর অন্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই ১৫ দফা ফতোয়ায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, কোনোভাবেই ইসরায়েলকে অস্ত্র, রসদ, পরিবহন বা কৌশলগত সহায়তা দেওয়া ইসলামসম্মত নয়। তিনি বলেন, ইসরায়েল হচ্ছে এক কাফের দখলদার রাষ্ট্র, যারা গাজার মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করতে চায়। তাদেরকে সমর্থন করা, এমনকি কোনোরকম পরিবহন সহায়তা দেওয়া হারাম।
বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত ধর্মীয় চিন্তাবিদ কারদাঘির এই ফতোয়া শুধু IUAMS-এর পক্ষ থেকেই নয়, বরং এতে আরও ১৪ জন প্রভাবশালী মুসলিম পণ্ডিতের সমর্থন যুক্ত হয়েছে। তারা মুসলিম দেশগুলোর প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে থাকা শান্তিচুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফতোয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন—বিশেষ করে আগ্রাসন থামানো ও গাজায় শান্তি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে।
কারদাঘি বলেন, আমরা গাজার ভাইদের পাশে দাঁড়াতে, এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এই ফতোয়া জারি করেছি।
এই ধর্মীয় ফতোয়া আন্তর্জাতিকভাবে মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়া প্রকাশের এক প্রতীকী মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও ফতোয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবুও এর নৈতিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য প্রবল। এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং মুসলিম বিশ্বে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের বার্তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠে এসেছে—বিশ্ব নেতৃত্ব কি এবার গাজার পক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, নাকি আগের মতোই শুধু বিবৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হবে?

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

কার্টনে পাওয়া মরদেহের টুকরোগুলো সাভারের সবুজ মোল্লার

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে একটি স্কুলের পাশে এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মালঞ্চ এলাকায় কার্টনের মধ্যে পলিথিনে মোড়ানো অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত...

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে কর্মজীবী মানুষ

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ। দুদিন আগে থেকেই কর্মে ফিরতে শুরু করেছে অনেকেই।  আজ শনিবার ছুটির শেষ দিন আগামীকাল...

Related Articles

আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এতিমখানার নাম গাজা

ফিলিস্তিনের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, দখলদার ইসরাইলের নৃশংস আগ্রাসনে অবরুদ্ধ গাজায় ব্যাপকসংখ্যক...

ব্রিটিশ দুই আইনপ্রণেতাকে আটক করল ইসরায়েল

ইসরায়েল যুক্তরাজ্যের আইনসভার দুই সদস্যকে আটক করেছে ।ব্রিটিশ আইনসভার একটি প্রতিনিধিদলের অংশ...

ওয়াশিংটনে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক আলোচনায় থাকছে যেসব বিষয়

হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী...

ক্ষমা করে দাও মা , মৃত্যুর আগে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যকর্মীর ভিডিওবার্তা

‘আমাকে ক্ষমা করে দাও মা। এই পথটাই আমি বেছে নিয়েছি মা, মানুষকে...