গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিয়ের পরদিনই স্বামীর বাড়িতে এক নববধূ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আদালত তার স্বামীকে কারাগারে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদশা আলম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৭ আগস্ট ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে গ্রেফতারকৃত আসামির বিয়ে হয়। বিয়ের পরদিন (২৮ আগস্ট) রাতে স্বামীর বাড়িতেই নববধূকে বাসরঘরে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরের দিন সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাসুদার রহমান আকন্দ এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফাহাদ আল আসাদ বলেন, “নববধূকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। রক্তক্ষরণের পাশাপাশি শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তিনি নিজেই জানিয়েছেন যে, বাসরঘরেই তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে।” প্রাথমিক চিকিৎসার পর রক্তক্ষরণ বন্ধ হলে তাকে রাতেই রংপুর ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার রাতেই পুলিশ স্বামীসহ সাতজনকে আটক করলেও প্রাথমিক তদন্তে বাকি ছয়জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ না মেলায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে ভুক্তভোগী নারীর ভাই বাদী হয়ে তার বোনের স্বামীকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাত পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেন।
ওসি বাদশা আলম বলেন, “নববধূর স্বামীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনা স্থানীয় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, নববধূকে এভাবে নির্যাতনের ঘটনা সমাজে নারী নিরাপত্তাহীনতার একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজকেও আরও সচেতন হতে হবে।
Leave a comment