খাগড়াছড়িতে পাঁচ পর্যটক অপহরণের অভিযোগে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের চার নেতাকে বহিষ্কার করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। শুক্রবার রাতে কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নোনা প্রিয় চাকমা, যুগ্ম আহ্বায়ক দ্বীন ইসলাম পারভেজ, সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন ও আতাউর রহমান সুজন। বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন খাগড়াছড়ি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব হৃদয় নুর।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ থেকে ছয়জন পর্যটক বুধবার রাতে খাগড়াছড়ি আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি যাওয়ার পথে তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে স্বেচ্ছাসেবক দলের চার নেতা অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে রাঙামাটিতে নিয়ে গিয়ে ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপহৃতদের একজন কৌশলে পালাতে সক্ষম হন। এরপর বাকি দুজনকে নিয়ে প্রাইভেটকারে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা দেন অভিযুক্ত চার নেতা। বৃহস্পতিবার রাতে মাটিরাঙ্গা সেনা জোনের চেকপোস্টে গাড়িটি আটক হয় এবং সেনারা তাঁদের পুলিশে সোপর্দ করে।
মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ঘোষ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত চারজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অপরাধীরা যাতে পার পেয়ে না যায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে পর্যটক অপহরণের মতো ঘটনায় রাজনৈতিক দলের নেতাদের জড়িত থাকা স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
Leave a comment