এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রহস্যে ঘেরা বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় অবশেষে মুখ খুলেছেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একটি হত্যা মামলায় রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন।
শেখ মামুন খালেদ জানান, ২০১২ সালে ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প এবং বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরুদ্ধে ইলিয়াস আলীর কঠোর অবস্থান ও আন্দোলনের ঘোষণা সরকারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মূলত এই রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে জনমত গঠনের প্রচেষ্টাই তার গুম হওয়ার প্রধান কারণ ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধান দাবি করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে গুম করার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়। এই অভিযানে এলিট ফোর্স র্যাব সরাসরি অংশ নেয় এবং ডিজিএফআই-এর দুজন মেজর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেন। অভিযানের আগে ও পরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িচালকসহ নিখোঁজ হন বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী। সেই সময় শেখ মামুন খালেদ ডিজিএফআই-এর শীর্ষ পদে দায়িত্বরত ছিলেন। শুরুতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও রিমান্ডের জেরায় তিনি স্বীকার করেন যে, তার অধীনে থাকা বেশ কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এই নিখোঁজ অভিযানের বিষয়ে আগে থেকেই অবগত ছিলেন।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, শেখ মামুন খালেদের নির্দেশেই তৎকালীন ডিজিএফআই ও র্যাবের একটি বিশেষ দল এই অভিযানটি সফল করে। এছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ঢাকা সেনানিবাসের বাসভবন থেকে উচ্ছেদের নেপথ্য ঘটনাবলি এবং এক-এগারো পরবর্তী আওয়ামী লীগ আমলের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ৫ দিনের রিমান্ড শেষে শেখ মামুন খালেদকে পুনরায় ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এক-এগারোর সময়ের বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. আফজাল নাছেরকেও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্যগুলো বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, যা দেশের অনেক অমীমাংসিত ঘটনার জট খুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a comment