মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনসহ ফেডারেল সংস্থাগুলোকে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) এবং সম্ভাব্য ভিনগ্রহী প্রাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি শনাক্ত ও প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, এসব “অত্যন্ত জটিল কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ” বিষয়ে সরকারের কাছে থাকা সব ধরনের তথ্য উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রতিরক্ষা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
তবে শ্রেণিবদ্ধ বা গোপন নথিগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি ট্রাম্প। তাঁর এই ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে—বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ভিনগ্রহী প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করার পর জনমনে যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওবামা ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, পরিসংখ্যানগতভাবে মহাবিশ্ব এতটাই বিশাল যে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে সৌরজগতগুলোর মধ্যে বিপুল দূরত্বের কারণে ভিনগ্রহীদের পৃথিবীতে আসার সম্ভাবনা খুবই কম এবং তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে এমন কোনো প্রমাণ তিনি দেখেননি যে, বহির্জাগতিক প্রাণীরা পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বা গোপন সরকারি স্থাপনায় তাদের রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প অবশ্য ওবামার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া তাঁর উচিত হয়নি এবং এতে সংবেদনশীল তথ্যের ইঙ্গিত থাকতে পারে। “তিনি বড় ভুল করেছেন,” সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্যও করেন ট্রাম্প।
এর আগে ২০২৪ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএফও সংক্রান্ত অধিকাংশ ঘটনার পেছনে ভিনগ্রহী প্রযুক্তির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি; বরং সেগুলোর বেশিরভাগই ছিল গুপ্তচর বিমান, স্যাটেলাইট বা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ বেলুন।
তারপরও ট্রাম্পের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ক্যাপিটল হিলে দ্রুত সমর্থনের সুর শোনা গেছে। অজ্ঞাত আকাশীয় ঘটনার তদন্তে গঠিত কংগ্রেসীয় টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান আনা পলিনা লুনা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে জনগণের সামনে বহুদিনের রহস্য উন্মোচনের সুযোগ তৈরি হবে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যানও এ উদ্যোগকে “চমৎকার” উল্লেখ করে বলেন, আমেরিকা ও বিশ্ববাসীর এ তথ্য জানার অধিকার রয়েছে।
এখন ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশনায় সম্ভাব্য প্রকাশিত নথিগুলো কতটা নতুন তথ্য সামনে আনে, তা নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল।

Leave a comment