যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের কিছু প্রকাশিত নথি ও ছবিকে ঘিরে বহু বছর ধরে চলা বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে । এসব নথিতে বিভিন্ন সময় এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিজলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে পরিচিত বা একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—এমন কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকার নাম ও ছবি দেখা যাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট নথিতে তাদের কারও বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এপস্টেইনের বিলাসবহুল পাম বিচের বাড়িটি বহুদিন ধরেই তদন্তকারীদের নজরে ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, এখানেই প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তারকাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ গড়ে উঠত। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো কিছু নথি ও ছবিতে সংগীত জগতের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসন এবং রোলিং স্টোনস তারকা মিক জ্যাগারের উপস্থিতির উল্লেখ দেখা গেছে।
একটি ছবিতে মাইকেল জ্যাকসনকে অন্য কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে একটি সামাজিক পরিবেশে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। আরেকটি তথ্যে বলা হয়েছে, তাকে এপস্টেইনের পাম বিচের বাসভবনেও দেখা গিয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—জ্যাকসনের বিরুদ্ধে সেখানে কোনো বেআইনি বা অনৈতিক আচরণের প্রমাণ নেই।
একইভাবে, মিক জ্যাগারের একটি ছবি নিয়েও আলোচনা চলছে, যেখানে তাকে একটি ডিনার আয়োজনে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়। সেখানেও তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
এপস্টেইন-সংক্রান্ত আগের কিছু জবানবন্দিতেও বিভিন্ন সেলিব্রিটির নাম উঠে এলেও, আইনগতভাবে দায় প্রমাণের মতো তথ্য পাওয়া যায়নি—এমন মন্তব্য তদন্ত সংশ্লিষ্ট মহল থেকে আগে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইনের সঙ্গে কারও সামাজিক যোগাযোগ বা একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকা নয়। কিন্তু উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় ছড়িয়ে পড়ে এবং নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যাচাই ছাড়া ব্যক্তিদের নাম ঘিরে অনলাইন প্রচারণা বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এবং তা মানহানির ঝুঁকিও তৈরি করে। তাই এ ধরনের নথি বা ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট, আইনগত অবস্থান ও প্রমাণের বিষয়টি আলাদা করে দেখা জরুরি।
Leave a comment