মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোরে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিবসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনায় দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-তে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার ও নিশ্চিত করেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিব ছাড়াও পরমাণু কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা ডিমোনা এবং আরাদ অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তেল আবিবের জনবহুল এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় অসংখ্য যানবাহন দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং আশপাশের বহুতল ভবনগুলোর কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল অন্তত একটি বড় ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর দিয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা বিভাগ (এমডিএ) জানিয়েছে, তারা দেশের মধ্যাঞ্চলের আক্রান্ত স্থানগুলোতে একাধিক উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। সাইরেন বাজার পরপরই সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত হওয়ার পরপরই তেল আবিবসহ মধ্য ইসরায়েলজুড়ে উচ্চশব্দে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। আলজাজিরা ও ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে
Leave a comment