মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি, ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘নো কিংস’ (কোনো রাজা নেই) ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচি দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ গণজাগরণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে শুরু করে ফিলাডেলফিয়া ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো প্রধান শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে ট্রাম্প প্রশাসনের একচ্ছত্র ক্ষমতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
শনিবার স্থানীয় সময় দুপুরে ফিলাডেলফিয়ার রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের এক বিশাল সমাবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সিএনএন-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান কেওয়াইডব্লিউ-এর ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা ফেস্টুন ও প্লাকার্ড হাতে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছেন। আয়োজক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩,১০০টি শহরে এই বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক ও ‘মুভঅন’-এর নির্বাহী পরিচালক কেটি বেথেল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের সদস্যরা দেশের একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের আশায় রাজপথে নেমেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে আমেরিকার জনগণের জন্য সব স্তরেই একটি হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তারা দেশের অভ্যন্তরে বিভাজন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে, যা সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা মেনে নিতে পারি না।”
মূলত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোতে আমূল পরিবর্তনের চেষ্টার প্রতিবাদে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন গণতান্ত্রিক কাঠামোর তোয়াক্কা না করে একনায়কতান্ত্রিক পন্থায় রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। বিশেষ করে ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মার্কিন অর্থনীতি ও জনজীবনে।
এদিকে, এই বিশাল গণবিক্ষোভকে বরাবরের মতোই তুচ্ছজ্ঞান করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই-নির্ভর মিম (Meme) শেয়ার করে আন্দোলনকারীদের উপহাস করেছেন। একটি ছবিতে ট্রাম্পকে রাজমুকুট পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে, অন্য একটি কাল্পনিক ছবিতে তাকে ‘কিং ট্রাম্প’ লেখা যুদ্ধবিমান থেকে বিক্ষোভকারীদের ওপর বর্জ্য নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। গত অক্টোবরেও এই আন্দোলনকে ‘অকার্যকর’ এবং অংশগ্রহণকারীদের ‘পাগল’ বলে অভিহিত করেছিলেন ট্রাম্প।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গ্রামীণ এলাকা থেকে শুরু করে বড় শহর পর্যন্ত জীবনের সব স্তরের মানুষের এই অংশগ্রহণ ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। সাধারণ আমেরিকানরা নিরন্তর রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের বিরুদ্ধে এখন অনেক বেশি সোচ্চার।
Leave a comment