মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার মধ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ৪ হাজার ৮২৯ জন আহত হয়েছেন। আলজাজিরা জানিয়েছে, এই বিপুল সংখ্যক আহতদের মধ্যে বর্তমানে ১১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা অত্যন্ত ‘গুরুতর’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষিতে ইরান পাল্টা হামলা শুরু করলে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এই যুদ্ধ ২৫তম দিনে পদার্পণ করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে চালানো মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে ইসরায়েলের বিভিন্ন বেসামরিক ও কৌশলগত এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে হতাহতের এই বিশাল সংখ্যা তৈরি হয়েছে
বর্তমানে এই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন হামলা ও পাল্টা হামলা চলছে। গাজার এই অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলের শান্তিকে বিঘ্নিত করছে। অন্যদিকে, উত্তর সীমান্তে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গেও ইসরায়েলের উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। লেবানন সীমান্ত দিয়ে হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক হামলা এই যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার ও আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
দীর্ঘ ২৫ দিনের এই যুদ্ধে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তেল আবিবসহ প্রধান শহরগুলোতে নিয়মিত সাইরেন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বহুমুখী সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিশ্বনেতারা সংঘাত নিরসনের আহ্বান জানালেও যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।
Leave a comment