বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি খুব শিগগিরই পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই প্রণালিটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি বলেন, “আলোচনা সফল হলে প্রণালিটি খুব দ্রুতই খুলে যাবে।” যৌথ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি স্পষ্ট করে ট্রাম্প আরও বলেন, “এটি যৌথভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। আমি এবং আয়াতুল্লাহ—যেই থাকুন না কেন, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ; দুই পক্ষই এর তদারকিতে থাকবে।”
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর থেকে প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ট্রাম্পের এই নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের স্বস্তি পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের শাসনব্যবস্থায় অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং তা হবে অনেকটা “স্বয়ংক্রিয়”। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের “শীর্ষ পর্যায়ের” কিছু যুক্তিবাদী ও সম্মানিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যারা সংকট নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা বা তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়ে তিনি ধোঁয়াশা বজায় রাখেন। এর আগে ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, সর্বোচ্চ নেতা জীবিত আছেন কি না, তা নিয়ে তাঁর কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
ট্রাম্পের এই নমনীয় অবস্থান এবং যৌথ নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান এই প্রস্তাবকে কীভাবে গ্রহণ করে।
Leave a comment