নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন। উচ্চ আদালত থেকে পৃথক পাঁচটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা এই মামলার নম্বর ৪১।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক মেয়রকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ আইভীকে পৃথক পাঁচটি মামলায় জামিন দেন। এসব মামলার মধ্যে ছিল ফতুল্লা থানায় দায়ের করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা ও পারভেজ হত্যা মামলা এবং সদর মডেল থানায় দায়ের করা পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলা।
জামিন আদেশের পর তার মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশ একই দিনে সিদ্ধিরগঞ্জের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানায়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করলে তার কারামুক্তি স্থগিত হয়ে যায়।
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো আসামি একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হলে একটি মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে মুক্তি কার্যকর হয় না। আইভীর ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসৃত হয়েছে।
সর্বশেষ গ্রেপ্তার দেখানোর ফলে সাবেক এই মেয়রের বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা ১১টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে আরও পাঁচটি হত্যা মামলা বর্তমানে আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
ফলে আইনগত জটিলতা কাটিয়ে তার কারামুক্তি কবে সম্ভব হবে, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, আপিল বিভাগে শুনানির অগ্রগতি এবং নতুন মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপরই তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ২০২৫ সালের ৯ মে ভোররাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত তার পৈত্রিক বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে রয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এই নেত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা কেন্দ্র করে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। যদিও তার পক্ষ থেকে আগেও অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে।
সর্বশেষ যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কার একটি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ওই সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সেলিম মণ্ডল নামের এক ইন্টেরিয়র কর্মীকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলাতেই আইভীকে আসামি করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান। পুলিশ বলছে, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালতেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে।
আইভীর ধারাবাহিক গ্রেপ্তার ও জামিন-পরবর্তী পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনাকে অনেকেই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
Leave a comment