রাজধানীর বিজয়নগরে সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গুরুতর আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসিসি) থেকে নুরুল হক নুরকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি ৯ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঢামেকের ওসিসির এক চিকিৎসক জানান, “নুরুল হক নুরের নাক ও চোখে গুরুতর আঘাত রয়েছে। ওসিসিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে। অন্তত ৪৮ ঘণ্টা না গেলে তার অবস্থা নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়।”
রাত ১১টার দিকে নুরুল হক নুরকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হলে সেখানে রাজনৈতিক নেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রথমে তাকে দেখতে যান। কিছুক্ষণ পর আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল হাসপাতালে পৌঁছান।
তবে আসিফ নজরুলকে ঘিরে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা দেখা দেয়। গণঅধিকার পরিষদের একাংশের কর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজয়নগরে আল রাজী টাওয়ারের সামনে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের (গাপ) নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। রাত ৯টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।
গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাল্টা লাঠিচার্জ করে। এতে বহুজন আহত হন। সেখানে গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় নুরুল হক নুর সরাসরি হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, “আমরা পার্টি অফিসের সামনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। এতে নুর ভাই মারাত্মকভাবে আহত হন। সাংবাদিকসহ আরও অনেকে এ ঘটনায় জখম হয়েছেন।”
এ ঘটনার পর বিজয়নগর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ ও পুলিশি অভিযানে অন্তত এক ডজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
রাজনৈতিক মহলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে, সরকার ভিন্নমত দমনে দমননীতি অবলম্বন করছে। অন্যদিকে সরকারি মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেবলমাত্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পদক্ষেপ নিয়েছে।
Leave a comment